ফের দূষিত বাতাসে শীর্ষে ঢাকা


hadayet প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৩, ২০২৩, ৩:৫৬ পূর্বাহ্ন /
ফের দূষিত বাতাসে শীর্ষে ঢাকা

সবচেয়ে বেশি ৩০ শতাংশ দূষণ অপরিকল্পিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণ কাজে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ শতাংশ ইটভাটা ও কারখানা থেকে তৃতীয় হচ্ছে গাড়ির কালো ধোঁয়া – স্ট্রোক হৃদরোগ ফুসফুসের ক্যান্সার শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণসহ মৃত্যুহার বৃদ্ধি

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বা খারাপ বাতাসের শহরের তালিকায় আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। গতকাল সকাল ৭টায় আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা- এয়ার ভিজুয়ালের বায়ুমান সূচকে (একিউআই) ৩১৬ স্কোর নিয়ে ঢাকার বাতাসের মান ‘বিপজ্জনক’ অবস্থায় ছিল। এ সময় প্রতি ঘনমিটার বাতাসে দূষণের সবচেয়ে বিপজ্জনক উপাদান পিএম-২.৫ (অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা) ছিল ২৬৬ মাইক্রোগ্রাম। বিকাল ৫টা নাগাদ দূষণ কিছুটা কমে বায়ুমান সূচকে স্কোর ১৯০-তে নামলেও ঢাকা ছিল দূষিত নগরীর তালিকায় শীর্ষে। গতকাল সকালে ভারতের দিল্লি ও চীনের শেনইয়াং যথাক্রমে ৩১৩ ও ২৪৫ স্কোর নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিল। একিউআই স্কোর ৫০ এর মধ্যে থাকলে তাকে স্বাস্থ্যকর, ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সহনশীল, ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল (শিশু, বৃদ্ধ ও নানা রোগে আক্রান্ত) জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর ও ৩০০ ছাড়িয়ে গেলে বিপজ্জনক মাত্রায় দূষিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এয়ার ভিজুয়ালের তথ্যানুযায়ী, ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২২ জানুয়ারি বিকাল ৫টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টা বিপজ্জনক মাত্রায় দূষিত ছিল ঢাকার বাতাস। বায়ুমান সূচকে ৪৬১ স্কোর নিয়ে সর্বোচ্চ দূষিত ছিল ২১ জানুয়ারি রাত ৯টায়। এ সময় প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ক্ষতিকর পিএম-২.৫ ছিল ৪৪২ মাইক্রোগ্রাম, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেওয়া বার্ষিক গড় সীমার চেয়ে ৮৮.৪ গুণ বেশি। ২০২১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার বায়ুমান নির্দেশক গাইডলাইন পরিবর্তনের পর জানায়, পিএম-২.৫ এর গড় বার্ষিক ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি হওয়া উচিত নয়। তবে এর চেয়ে কম ঘনত্বও উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আর পিএম-২.৫ হলো বাতাসে থাকা সব ধরনের কঠিন এবং তরল সূক্ষ্ম কণার সমষ্টি, যার বেশির ভাগই বিপজ্জনক। ক্যান্সার, কিডনিরোগ, বন্ধ্যত্ব, অ্যাজমা, হৃদযন্ত্রের সমস্যা থেকে শুরু করে প্রাণঘাতী নানা রোগের জন্য দায়ী এই দূষক পদার্থ।

গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘ব্রিদিং হেভি : নিউ এভিডেন্স অন এয়ার পলিউশন অ্যান্ড হেলথ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণের কারণে বছরে ৭৮ থেকে ৮৮ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। বায়ুদূষণের সংস্পর্শে আসায় উল্লেখযোগ্যভাবে শ্বাসকষ্ট, কাশি, শ্বাসনালির সংক্রমণ ও বিষণœতার ঝুঁকি বাড়ছে। সংস্থাটি ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সারা দেশের বায়ুমানের ওপর গবেষণা করে এই তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রতি বছর বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশ এবং ঢাকা দ্বিতীয় দূষিত শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশে বায়ুদূষণের শীর্ষে আছে ঢাকা। ঢাকার স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) এক গবেষণা বলছে, ঢাকায় সবচেয়ে বেশি (৩০ শতাংশ) বায়ুদূষণ হচ্ছে অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণ কাজের মাধ্যমে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (২৯ শতাংশ) বায়ুদূষণ হচ্ছে ইটভাটা ও শিল্পকারখানার মাধ্যমে। বায়ুদূষণের তৃতীয় সর্বোচ্চ কারণ যানবাহনের কালো ধোঁয়া। প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ ১০টি স্থানের বায়ুমান নিয়ে গবেষণা করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শুধু বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার, শ্বাসতন্ত্রের তীব্র সংক্রমণসহ নানা কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পায়।