ফারদিন কেন আরো দুইবার চনপাড়া গিয়েছিলেন? পরের লাশ দুটি কার?


hadayet প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৩, ২০২২, ৩:১২ পূর্বাহ্ন / ১০
ফারদিন কেন আরো দুইবার চনপাড়া গিয়েছিলেন? পরের লাশ দুটি কার?

বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশের লাশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধারের পর গত পাঁচ দিনে পাশের বুড়িগঙ্গা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। অন্যদিকে প্রযুক্তির বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ৪ নভেম্বরের আগে ১ ও ২ নভেম্বর ফারদিন দুইবার চনপাড়া এলাকায় গিয়েছিলেন। আর ৪ নভেম্বর ফারদিনের সঙ্গে আরেক যুবকও ছিলেন। ফারদিন নিখোঁজ এবং লাশ উদ্ধারের পরও ওই যুবকের হদিস মিলছে না।ফারদিনের লাশ উদ্ধারের দুই দিন পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সরকারি তেল ডিপো যমুনা অয়েল কম্পানি ঘাটের কাছে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে এক যুবকের গলিত লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং সেলাইয়ের দাগ থাকা মৃতদেহটি পচে যাওয়ায় শনাক্তের নমুনা রেখে এক দিন পর দাফন করা হয়। সবশেষ গতকাল শনিবার ফতুল্লার পাগলা পানগাঁও এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে কচুরিপানার সঙ্গে ভাসমান অবস্থায় আরেক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

সূত্র জানায়, ফারদিনের সঙ্গে থাকা যুবকের সন্ধান না মেলা, ৪ নভেম্বর রাতে চনপাড়ায় মারধরের ঘটনা এবং বুড়িগঙ্গায় ভেসে ওঠা দুই যুবকের লাশ ঘিরে অনেক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নৌ পুলিশ ছাড়াও তদন্তকারী ইউনিটগুলো এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজছে।

এদিকে সন্দেহভাজন হিসেবে চনপাড়া এলাকায় অপরাধকর্মে সক্রিয় তিন যুবককে নজরদারিতে রেখেছেন তদন্তকারীরা। রায়হান নামের এক যুবককে বরিশাল থেকে আটক করা হয়েছে। নূর জামাল নামের আরেক যুবককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

আলোচিত বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন হত্যা মামলার তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ছাড়া র‌্যাব, নৌ পুলিশসহ বিভিন্ন ইউনিটও ছায়া তদন্ত করছে।

গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, ‘প্রকৃত ঘটনা এখনো আমরা বের করতে পারিনি। আর ডিবির পক্ষ থেকে আমরা কখনো বলিনি, বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন ডেমরার চনপাড়ায় গিয়ে মাদকের কারণে মারা গেছেন। আবার মামলার আসামি ফারদিনের বন্ধুকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি, তিনিই খুন করেছেন, সেটিও আমরা বলছি না। আমরা পারিপার্শ্বিকতা, বিভিন্ন বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করছি। আমাদের দল সব বিষয়, তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করে বিচার-বিশ্লেষণ করছে। ’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকা শহরে তাঁরা যেখানে যেখানে গিয়েছেন, আমরা কিন্তু বিভিন্ন টেকনিক্যাল মাধ্যমে সেগুলো খুঁজে বের করেছি। ’

তদন্তকারী একটি সূত্র জানায়, ৪ নভেম্বরের আগে ১ ও ২ নভেম্বরও ফারদিন চনপাড়া এলাকায় গেছেন বলে তথ্য মিলেছে। ৪ নভেম্বর মোটসাইকেলে একজন তাঁর সঙ্গী ছিলেন। প্রযুক্তির বিশ্লেষণে তাঁর একটি নাম ‘পলাশ’ বলে জানা গেছে। তবে ওই যুবকের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য মেলেনি। ফারদিনের লাশ উদ্ধারের পর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে দুই যুবকের লাশ উদ্ধারের ঘটনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শীতলক্ষ্যার মোহনায় বুড়িগঙ্গা যেখানে মিলিত হয়েছে, সেখান থেকে ফতুল্লার লাশ উদ্ধারের স্থান বেশি দূরে নয়।

কালের কণ্ঠের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি দিলীপ কুমার মণ্ডল জানান, ৯ নভেম্বর একজন এবং গতকাল আরেকজন যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ৯ নভেম্বর উদ্ধার করা যুবকের লাশ ময়নাতদন্তের পরদিন মাইজদি কবরস্থানে অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করা হয়। পাগলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক শাহজাহান আলী জানান, ৯ নভেম্বর উদ্ধার করা লাশটির মাথায়, কপালে ও চোখে আঘাতের চিহ্ন এবং ক্ষতস্থানে সেলাই রয়েছে। লাশ পচে যাওয়ায় শনাক্তকরণের নমুনা রেখে দাফন করা হয়।

পাগলা নৌ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান সাজু জানান, গতকাল উদ্ধার করা লাশ বেশ কিছুদিন আগের হওয়ায় লাশের চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। নিহত যুবকের পরণে জিন্সের প্যান্ট ও সাদা ফতুয়া রয়েছে। তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। এই লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া)  হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে তদন্তকারী একাধিক সূত্র জানায়, চনপাড়ায় ফারদিনের যাওয়া ও যোগাযোগের সূত্রে বিভিন্ন স্থানে সন্দেহভাজনদের ধরতে অভিযান চলছে। গতকাল রাত পর্যন্ত তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এঁদের মধ্যে রায়হান ও নূর জামাল চনপাড়া এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ডে সক্রিয়।

গত ৪ নভেম্বর রাতে নিখোঁজ হন বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন। সেদিন বান্ধবী বুশরাকে রামপুরায় পৌঁছে দেওয়ার পর তাঁর আর হদিস পাওয়া যায়নি। ৭ নভেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিনের লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।