ডেঙ্গু জ্বর – কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা


hadayet প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২, ২০২৩, ৪:১৫ পূর্বাহ্ন / ৪০১
ডেঙ্গু জ্বর – কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

বিগত বছরগুলোর তুলনায় এই বছর ডেঙ্গু রোগ অনেক মহামারী আকার ধারণ করেছে। এই বছর ডেঙ্গু রোগীদের পর্যবেক্ষন করে দেখা গেছে যে, ডেঙ্গু হলে সামান্য জ্বরেই হার্ট, কিডনি ও ব্রেইন আক্রান্ত হচ্ছে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে আপনি, আপনার পরিবারের সবাই সহ পাড়া-প্রতিবেশীদেরও উচিৎ যথেষ্ট সচেতন থাকা এবং নিজ নিজ জায়গা থেকে ব্যবস্থা গ্রহন করা।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ

ডেঙ্গু (DENG-gey) জ্বর হল একটি মশা-বাহিত ভাইরাস-ঘটিত রোগ। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে প্রথমবার ডেঙ্গু-তে আক্রান্ত রোগীর বিশেষ কোন উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা যায় না। শুধু অল্প কিছু ক্ষেত্রেই রোগের প্রভাব গভীর হয়। ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গ গুলি হোল –

  • উচ্চ জ্বর (40°C/104°F)
  • তীব্র মাথার যন্ত্রণা
  • চোখের পিছনে ব্যথার অনুভূতি
  • মাংসপেশি এবং অস্থি সন্ধি (bone) তে যন্ত্রণা
  • বমিভাব
  • মাথাঘোরা
  • গ্রন্থি ফুলে যাওয়া
  • ত্বকে বিভিন্ন স্থানে ফুসকুড়ি

ডেঙ্গুর গুরুতর উপসর্গ গুলি হোল – 

  • প্রচণ্ড পেট ব্যথা
  • ক্রমাগত বমি হওয়া
  • মারি বা নাক থেকে রক্তপাত
  • প্রস্রাবে এবং মলের সাথে রক্তপাত
  • অনিয়ন্ত্রিত পায়খানা
  • ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ (যা ক্ষতের মতো দেখাতে পারে)
  • দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস
  • ক্লান্তি
  • বিরক্তি এবং অস্থিরতা

ডেঙ্গু জ্বরের ঘরোয়া প্রতিকার

  • ডেঙ্গু একটি মশা-বাহিত রোগ। তাই মশার কামড়ের হাত থেকে নিজেকে এবং আপনার পরিবার কে বাঁচান।
  • বাড়ির চারপাশে জল জমতে দেবেন না। জমা জলে মশারা বংশবিস্তার করে। জল জমতে না দিয়ে মশার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সপ্তাহে অন্তত একবার জল জমতে পারে এমন জায়গা পর্যবেক্ষণ করুন। এবং গাছের টব, ফুলদানি, পরে থাকা গাড়ির টায়ারের জমে থাকা জল ফেলে দিন।
  • শরীর ঢাকা জামা কাপড় যেমন লম্বা-হাতা শার্ট, লম্বা প্যান্ট, মোজা এবং জুতা পরুন।
  • ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী মশা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। এই সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন।
  • রাতে শোবার সময় মশারী ব্যবহার করুন।
  • মশা নিরোধক কেমিক্যাল যেমন পারমেথ্রিন ব্যবহার করুন।

ডেঙ্গু জ্বরের রোগীদের জন্য ডায়েট

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের জন্য, কিছু পুষ্টি উপাদান বিশেষ ভাবে উপকারী হতে পারে, যেমন

  • ভিটামিন সি (সাইট্রাস ফল, বেরি এবং শাক-সবজিতে পাওয়া যায়),
  • জিঙ্ক (সামুদ্রিক খাবার, মটরশুটি এবং বাদামে পাওয়া যায়)
  • আয়রন (মাংস, মটরশুঁটিতে পাওয়া যায়)
  • ওটমিল (সহজপাচ্য কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ)
  • পেঁপে
  • নারিকেলের জল
  • সেই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে জল পান করা দরকার শরীর কে হাইড্রেট করার জন্য।

প্রয়োজনে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন।