দুই বছরে প্রাথমিকে বন্ধ ১৮ হাজার স্কুল, শিক্ষার্থীরা যাচ্ছে কোথায়?


hadayet প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৭, ২০২৩, ৫:৪৬ পূর্বাহ্ন / ৬২
দুই বছরে প্রাথমিকে বন্ধ ১৮ হাজার স্কুল, শিক্ষার্থীরা যাচ্ছে কোথায়?

দুই বছরের ব্যবধানে সারাদেশে প্রাথমিক স্তরে ১৮ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কমেছে- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের এক শুমারিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমলেও বেড়েছে শিক্ষার্থী। শতভাগ স্বাক্ষরতা অর্জনের আগে বিপুল সংখ্যক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়াকে অস্বাভাবিক বলছেন শিক্ষা গবেষকরা। আর বন্ধ হওয়া বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মূলধারায় অর্ন্তভুক্ত করাই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা।

প্রতি বছর প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রনয়ণকল্পে বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি পরিচালনা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। সম্প্রতি প্রকাশিত শুমারিতে দেখা যায়, ২০২০ সালে সরকারি ও কিন্ডারগার্টেনসহ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার ২টি।

২০২২ সালে তা কমে হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৯টি। দুই বছরের ব্যবধানে প্রাথমিক বিদ্যালয় কমেছে ১৮ হাজার ৪৬৩টি।

শিক্ষার্থীদের বিষয়ে শুমারির তথ্য বলছে, ২০২২ সালে সারা দেশে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী ২ কোটি ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৯১ জন, যা আগের বছর ছিল ২ কোটি ৯০ হাজার ৫৭ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৩৪ জন শিক্ষার্থী বেড়েছে।

অধিদফতর বলছে, বন্ধ হয়নি কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বন্ধ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই কিন্ডারগার্টেন, এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয়, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং অন্যান্য বেসরকারি বিদ্যালয়। কোভিডের ধাক্কা, অর্থায়নের অভাব আর এনজিওভিত্তিক শিক্ষাকেন্দ্রের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণেই বন্ধ হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান।

এমন অবস্থায় বন্ধ হওয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করাকে মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের যদি মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা যায় তাহলে আতঙ্কের কিছু দেখছি না। কিন্তু বাস্তবতা যেটা, আসলেই কী আমরা তাদের ফিরিয়ে আনতে পারছি, নাকি হারিয়ে ফেলছি। তারা যে আবারও বিদ্যালয়ে ফিরেছে এমন তথ্য কিন্তু আমরা খুব একটা দেখছি না।

স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সংখ্যক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। একইসাথে বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যেন মূলধারায় গিয়ে মানসম্মত শিক্ষা পায়, সে জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৮ হাজার শিক্ষকের খালি পদপূরণসহ নানা পরামর্শ এই শিক্ষা গবেষকের।

শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের আগে বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে বলে আশংকা সংশ্লিষ্টদের।