সংঘাতে উত্তপ্ত ভোটের মাঠ, শেরপুর-চট্টগ্রামে সংঘর্ষ জামায়াত নেতা নিহত


hadayet প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৯, ২০২৬, ৪:০৯ পূর্বাহ্ন /
সংঘাতে উত্তপ্ত ভোটের মাঠ, শেরপুর-চট্টগ্রামে সংঘর্ষ জামায়াত নেতা নিহত

শেরপুরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবর্দী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিমের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে বিএনপি এবং জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ভাঙচুরও হয়। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

শেরপুর : শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ ঘটনায় তিনজন সাংবাদিকসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৩০জন আহত হয়েছেন। এসময় ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি মোটরসাইকেল। গতকাল দুপুরে উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠান মঞ্চে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জামায়াত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে প্রথমে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে নেওয়া হলে রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান ও শেরপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়রা জানান, পূর্বঘোষিত ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের নির্ধারিত দিন ছিল। সে অনুযায়ী সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন। এরপর অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল আসেন। এ সময় তিনিসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মঞ্চে বসেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক সামনের সারিতে চেয়ারে বসতে না পেরে হট্টগোল শুরু করেন। এরপর কথা কাটাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। সারা বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মঞ্চের সামনে রাখা কয়েক শ চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বিএনপি নেতা-কর্মীই বেশি। বিক্ষুব্ধ লোকজন অনুষ্ঠানস্থলে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। পরে আশপাশের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় নির্বাচনি প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের একটি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১০ আসনের  বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাধে। রাত ১০টার দিকে জামায়াত প্রার্থীর গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে আমবাগান এলাকায় রেললাইনের পাশে থাকা বিএনপি সমর্থিত কোকো স্মৃতি সংসদের কার্যালয়ের সামনে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। এ সময় জামায়াত কর্মীরা মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় কার্যালয়ের সামনে স্লোগান দিলে ভিতরে থাকা বিএনপি কর্মীরা বেরিয়ে এসে পাল্টা স্লোগান দেন। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, পাল্টাপাল্টি স্লোগান থেকে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফরিদপুর : ভাঙ্গায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রামের ইসরাফিল মোল্লার সঙ্গে প্রতিবেশী শাহাবুদ্দীন মোল্লার আগে থেকেই আধিপত্য নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তারা দুজনই বিএনপির সমর্থক।

মঙ্গলবার বিকালে চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলার পার্শ্ববর্তী ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদী গ্রামে বিএনপির নির্বাচনি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন ইসরাফিল মোল্লা। এ সময় বক্তব্য দীর্ঘ দেওয়ার অভিযোগে চুমুরদী বাবলাতলা গ্রামের শাহাবুদ্দীন মোল্লার পক্ষের এক ব্যক্তি ইসরাফিল মোল্লাকে কটাক্ষ করেন।

তখন দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। ঘটনার জেরে গতকাল দুপুরে শাহাবুদ্দীন মোল্লার সমর্থকদের সঙ্গে ইসরাফিল মোল্লার সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষ দেশি অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপে জড়িয়ে পড়ে। পৌনে এক ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহত জাহিদ মোল্লা (৩৭), ইয়াদ আলী মোল্লা (৩৫), জাকারিয়া মোল্লা (৩৭) ও লাভলী বেগমকে (৩৫) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।