১৬ বছরে দুই শতাধিক মৃত্যু


hadayet প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৮, ২০২৩, ৩:১৬ পূর্বাহ্ন / ৭৩
১৬ বছরে দুই শতাধিক মৃত্যু

চট্টগ্রামে গত ১৬ বছরে পাহাড় ধসে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল রবিবার ভোরে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর এলাকায় পাহাড় ধসে বাবা ও শিশুকন্যার মৃত্যু হয়। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি আহতও হয়েছে অনেকে। পাহাড় কাটা নিয়ে এ পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৮৫টি।

নগরীর ২৬টি পাহাড়ে ছয় হাজার ৫৫৮টি পরিবার বসবাস করলেও প্রায় দেড় হাজারের বেশি পরিবার ঝুঁকি নিয়ে থাকছে। এর মধ্যে বেশির ভাগেরই বসবাস সরকারি পাহাড়ে। পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় এ পর্যন্ত ৮৫টি মামলা হয়েছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে। তবে এ পর্যন্ত করা এসব মামলায় কতজনের শাস্তি হয়েছে তার কোনো তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা জানাতে পারেননি।

চলতি বছর এ পর্যন্ত ছয়টি মামলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ২০০৭ সালের ১১ জুন। ওই বছর চট্টগ্রামের সেনানিবাসসংলগ্ন কাইচ্চারঘোনা, ওয়ার্কশপ, নগরীর গরীরউল্লাহ শাহ মাজারসংলগ্ন কুসুমবাগ, লালখানবাজার মতিঝর্ণা, লেডিস ক্লাব, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ প্রায় সাতটি এলাকায় পাহাড়ধস হয়। ভোরে অল্প সময়ের ব্যবধানে এসব পাহাড় ধসে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়, যার বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

২০০৭ সালের ভয়াবহ পাহাড়ধসের পর সরকার বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পাহাড় ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন করে। ২০২২ সালে ১৭ জুন পাহাড় ধসে নিহত হয় আরো চারজন। আকবরশাহ থানাধীন ১ নম্বর ঝিল এলাকায় এই পাহাড়ধস হয়। ২০১২ সালের চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশে পাহাড় ধসে ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০১১ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রামের টাইগারপাস এলাকার বাটালি হিল পাহাড় ও প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে ১৭ জনের প্রাণহানি হয়।

২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের লালখানবাজার মতিঝর্ণা এলাকায় চার পরিবারের ১২ জন মারা যায়।  ২০১৩ সালে মতিঝর্ণায় দেয়ালধসে দুজন মারা যায়। ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই বায়েজিদ এলাকার আমিন জুট মিল কলোনিতে পাহাড় ধসে মারা যায় তিনজন। একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ থানার মাঝিরঘোনা এলাকায় মারা যান মা-মেয়ে। ২০১৮ সালের ১৪ অক্টোবর নগরীর আকবরশাহ থানাধীন ফিরোজশাহ কলোনিতে পাহাড় ধসে মারা যান চারজন। ২০১৯ সালে কুসুমবাগ আবাসিক এলাকায় পাহাড় ধসে এক শিশু প্রাণ হারায়।

এদিকে গত ৮ আগস্ট চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলনকক্ষে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়। এই পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, সদস্যসচিব হচ্ছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)। সভায় সাতটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনাসহ অবৈধ বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব মাসুদ কামাল বলেন, পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদের বিষয়ে সারা বছরই অভিযান চালানো হয়। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাহাড় কাটা বন্ধের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদের অভিযান জোরদার করা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের উপপরিচালক মাহমুদুল হক বলেন, পাহাড় কাটার অভিযোগ পাওয়া গেলেই অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হচ্ছে অথবা মামলা করা হচ্ছে।