বুয়েটে টিকে থাকতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়াশীলরা


hadayet প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩, ২০২৪, ৩:৪৯ পূর্বাহ্ন / ২০
বুয়েটে টিকে থাকতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে প্রতিক্রিয়াশীলরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বারবার বুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উত্থাপনের চেষ্টাকে মোটেই সাদামাটা বিশ্লেষণ করতে রাজি নন বর্তমান ও সাবেক ছাত্রনেতারা। তারা বলছেন, বারবার বুয়েটে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলো দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে এবং এক্ষেত্রে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইমোশোনকে ব্যবহার করে থাকে।

সম্প্রতি বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি করার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ালো। আদালতের আদেশ বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রাখা যাবে না। সোমবার (১ এপ্রিল) ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কেনো বারবার বুয়েটে রাজনীতি করার বিষয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয় ছাত্রসংগঠনগুলোকে, আর কারা বাধা সৃষ্টি করে। রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দাবি, গত দুই দশকেরও বেশি সময় বুয়েট প্রতিক্রিয়াশীলদের আস্তানা হওয়ার কারণে তারা চায় না অন্য কোন রাজনৈতিক সংগঠন সেখানে সক্রিয় থাকুক।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত বুয়েটের শেরেবাংলা হলে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর ১১ অক্টোবর থেকে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সেই সুযোগ নিয়ে মূলধারার রাজনীতি বন্ধ থাকলেও অভিযোগ আছে কিছু মৌলবাদী সংগঠন তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলো। সম্প্রতি বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের (আইইবি) নেতারা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবারও বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি চালুর দাবি জানান। আইইবি নেতারা মনে করেন, বুয়েটে মুক্ত চিন্তা থাকা প্রয়োজন। নেতার বলেন, বুয়েটে সুস্থ রাজনীতির চর্চা না থাকার কারণে মৌলবাদী ধারার অনুপ্রবেশ ঘটবে। হিযবুত তাহরিরের লিফলেট ছড়ানো হচ্ছে। আমরা সবার সহাবস্থান ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই।

কী ঘটেছিলো সেইদিন

বৃহস্পতিবার রাতে ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে টানা তিন দিন বিক্ষোভ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এরা সবাই সাধারণ শিক্ষার্থী তা ভাবতে রাজি নন অন্য ছাত্রসংগঠনগুলো।

কী ঘটেছিলো জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্থ বলেন, ‘বুয়েটে আমরা রাত ২টার দিকে গিয়েছিলাম, এত রাতে তো আর রাজনৈতিক প্রোগ্রাম থাকার কোনো কথা নয়। সাদ্দাম ভাই (ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি) তো প্রায় প্রায়ই বুয়েটে ঘুরতে যান, হাঁটতে যান। বরাবরের মতো ওইদিনও সাদ্দাম ভাই ক্যাম্পাসে গাড়ি রেখে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এমন সময় বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি জানতে পারে যে, সাদ্দাম ভাই বুয়েটে আছেন। তখন তারা কিছু মোটরসাইকেল নিয়ে ভাইকে ফুল দেওয়ার জন্য ভেতরে প্রবেশ করেন। এ ঘটনাকেই শিক্ষার্থীরা হয়তো অন্যভাবে নিয়েছেন। আসলে সেখানে আমাদের কোনো প্রোগ্রাম ওইদিন ছিল না।’

ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা বুয়েট ক্যাম্পাসে চলমান এই আন্দোলনে একটি ‘অন্ধকার সংগঠনের’ ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন ছাত্র। এরমধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে তারা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের আবেগকে ব্যবহার করে একটি অন্ধকার সংগঠনের ইন্ধনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। বুয়েটে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির ও নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীর। আর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির হয়ে যারাই কথা বলছে, তাদের ছাত্রলীগ আখ্যা দিয়ে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে।

রায় ঘোষণার পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, বুয়েটে নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করবে ছাত্রলীগ।বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি মেনেই রাজনীতি করা হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে আদালতের রায় মানতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার।