সিপিডির ভাবনায় বাজেটের যত ইতিবাচক দিক


hadayet প্রকাশের সময় : জুন ৯, ২০২৪, ৪:২১ পূর্বাহ্ন /
সিপিডির ভাবনায় বাজেটের যত ইতিবাচক দিক

প্রতিবছর বাজেট প্রস্তাবের পরে নিয়ম করে বিশ্লেষণধর্মী সংবাদ সম্মেলন করে থাকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। এবারও ব্যতিক্রম নয়। শুক্রবার তারা সংবাদ সম্মেলনে বেশকিছু ইতিবাচক দিকের কথা স্বীকার করেছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর বাইরেও বেশকিছু ইতিবাচক দিক বাজেটে আছে। সেসব উল্লেখ করার পরে কাজেটকে বাস্তবতা বিবর্জিত বলাটা স্ববিরোধীতা হবে।

সরকারের আর্থিক নীতি নিয়ে বরাবরই নেতিবাচক মন্তব্য করলেও এবার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিয়ে বিশাল বাজেটে না গিয়ে সংযত বাজেট ঘোষণা করায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। তারা বলেন, এমপিদের গাড়ি আমদানিতে শুল্ক আরোপ করার উদ্যোগকে ভালো উদাহরণ হিসেবেই দেখছি। তবে মন্ত্রী-এমপিদের করমুক্ত গাড়ি পাওয়ার যে আইন রয়েছে সে আইন পরিবর্তন করতে হবে। তাদের কিছু পরিমাণ হলেও কর দেয়া উচিত।বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে গুরুত্ব দেয়াকে সিপিডি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বলেও জানিয়েছেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক।

যদিও প্রতিষ্ঠানটি বলছেন, “আগামী বাজেট বাস্তবায়নে যে লক্ষ্যমাত্রাগুলো নেওয়া হয়েছে, তা উচ্চাকাঙ্ক্ষী। বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই, বাস্তবতাসম্মত নয়। সমস্যাকে মেনে না নেওয়ায় বাস্তবতার গভীরে যাওয়া হয়নি। বাজেট বাস্তবায়নে লক্ষ্যগুলো দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের দিক নির্দেশনা নেই।” এবং তারা মনে করছেন চাপে থাকা সামষ্টিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের পথ দেখাতে প্রস্তাবিত বাজেট ‘ব্যর্থ হয়েছে’।

প্রশ্ন হলো, সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টা, অর্থমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বাস্তবতা স্বীকার ও সেখান থেকে উত্তরণের দিক নির্দেশনা এবং প্রথমবারের মতো নীতি বিবৃতির মাধ্যমে আর্থিক ঝুঁকি চিহ্নিতকরণের আলাদা প্রচেষ্টার কোনটিই তাদের নজরে আসে না। কেবল এই বছরই নয়। কোন বছরই তারা বাজেট এর বিষয়ে ইতিবাচক কোন দৃষ্টিভঙ্গি দেখান না। এটা কেবলই বিরোধীতা করার জায়গা কিনা সে প্রশ্ন রয়েই যায়।

সিপিডি বলছে, “আগামী ১২ মাসে কীভাবে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ছয় শতাংশে নামিয়ে আনা হবে তা আমাদের বোধগম্য নয়, এটা উচ্চাকাঙ্ক্ষী।”যদিও বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নিজের প্রথম বাজেট পেশ করা অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন বাজেটের আকার আমরা কমিয়ে রেখেছি। যাতে মূল্যস্ফীতির ওপর কোনও চাপ না পড়ে।’তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার ফলাফল পেতে আরও ৬ মাস অপেক্ষা করতে হবে। চলতি বছরের শেষের দিকে মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করবে।’

বাজেট পেশের পরের দিন প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিশেষ করে খাদ্যমূল্য… সেখানে উৎপাদন এবং সরবরাহ বৃদ্ধি করতে হবে। বৃষ্টির কারণে যেমন আলুর বীজ নষ্ট হয়েছে, এমন অনেক কিছুই আছে। আমরা এখনও উৎপাদনমুখী হলে খাদ্যে কোনও অভাব হবে না।’

বাজেটে এবার মৌলিক চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা গতকাল (বৃহস্পতিবার) বাজেট দিয়েছি। বিএনপির আমলে সবশেষ বাজেট মাত্র ৬২ হাজার কোটি টাকার ছিল। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়েছিল ৬৮ হাজার কোটি টাকার। সেখানে আমরা ৭ লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকা বাজেট প্রস্তাব করেছি। এই বাজেটে এবার কতগুলো মৌলিক চাহিদা… মানুষের মৌলিক যে অধিকার; সেটাকে নিশ্চিত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, দেশীয় শিল্প এবং সামাজিক নিরাপত্তা—এগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’ এসব পদক্ষেপ মানুষের জীবনকে উন্নত করবে এবং নিশ্চয়তা দেবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সিপিডির সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, “একটা চ্যালেঞ্জিং সময়ে বাজেট দেওয়া হল। ‘এক্সট্রা অর্ডিনারি’ সময়ে ‘অর্ডিনারি’ বাজেট দেওয়া হল, আমাদের প্রত্যাশা ছিল এই বাজেট অনেক উদ্ভাবনী হবে। এখানে সৃজনশীল ও কিছু সাহসী পদক্ষেপ থাকবে।’’ অথচ দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে অব্যবস্থাপনা কমিয়ে আনতে প্রথমবারের মতো বাজেটে ‘আর্থিক ঝুঁকি বিবৃতি’ যুক্ত করা হয়েছে। এই বিবৃতিতে সামষ্টিক অর্থনীতি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কারিগরি সহযোগিতা ও প্রতিষ্ঠানটির টুলকিট ব্যবহার করে এই বিবৃতি প্রস্তুত করেছে অর্থ বিভাগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী মনে করেন ‘এই ঝুঁকির বিবেচনাটা মূলত আসছে সামষ্টিক অর্থনীতিতে যে অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে সেটা ঠিক করার লক্ষ্যে; এই জায়গাটা লিখিত আকারে একটা ফরমেশনে নিয়ে এসেছে সরকার।

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সামষ্টিক অর্থনৈতিক অনুবিভাগ) ড. জিয়াউল আবেদীন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে জানান, রিস্ক স্টেটমেন্ট হিসেবে আর্থিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবারই প্রথম। ফিন্যান্সিয়াল যে ফরমাল অ্যানাইলাইসিস, এটা প্রথমবার শুরু হয়েছে। এটা আইএমএফ এর প্রেসক্রিপশন নয়। রিস্ক অ্যানালাইসিস করতে গেলে, গতবার আমরা যখন করেছি তখন সেটা ফরমাল কোনও টুল ছিল না। রিস্ক অ্যানালাইসিসের ফরমাল টুলটা ডেভেলপ করেছে আইএমএফ। আমরা সেটা ইউজ করেছি। আমরা নিজেরাই বলেছি যে, এটা আমরা করতে চাই, যে কারণে ওরা (আইএমএফ) আমাদের এই টুলটা দিয়েছে। এবং আমরা যাতে এটা কারেক্টলি ইউজ করতে পারি সেজন্য ওরা (আইএমএফ) আমাদের ট্রেনিংও দিয়েছে।’