শিক্ষক ছাত্রদের আন্দোলনে বিএনপির উসকানি


hadayet প্রকাশের সময় : জুলাই ৭, ২০২৪, ৩:১৯ পূর্বাহ্ন /
শিক্ষক ছাত্রদের আন্দোলনে বিএনপির উসকানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিতে কোটার ব্যাপারে ছাত্র-তরুণদের দাবি অবশ্যই ন্যায্য এবং যৌক্তিক বলে মনে করে বিএনপি। একই সঙ্গে কোটাবিরোধী চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে দলটি। শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন। একে সরকারবিরোধী অবস্থান ও উসকানি বলে উল্লেখ করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, চলমান আন্দোলনে এভাবে রাজনৈতিক দলের সমর্থন দেওয়া তাদের আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্থ করে।

মির্জা ফখরুল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সর্বজনীন পেনশন ‘প্রত্যয়’ স্কিম প্রত্যাহারের দাবিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কর্মচারীদের এই যৌক্তিক আন্দোলন সমর্থন করছি এবং অবিলম্বে এই পেনশন স্কিম প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সব কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক ও কর্মচারী সম্প্রতি শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করার জন্য দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের সম্পৃক্ত করে সরকারি পরিপত্র জারি করেছে। এ বিষয়টি নিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সম্প্রদায় ও কর্মচারীদের এই স্মারক প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এর প্রতিবাদ করেছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদান, পরীক্ষাগ্রহণসহ সব প্রকার কার্মকাণ্ড বন্ধ রেখেছে। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এটা জাতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রকৃতপক্ষে এটি এই দেউলিয়া সরকারের দুর্নীতির আরেকটি পথ খুলে দেওয়া। যেহেতু দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চরম সংকটাপন্ন সেহেতু অন্যান্য খাতসহ শিক্ষকদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে এই পেনশনের টাকা তুলে নিতে চাচ্ছে।

এর আগে, সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে বিএনপির সমর্থন রয়েছে বলে ঘোষণা দেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘সরকার শিক্ষকদের অনাহারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিক্ষকদের পেনশনবিরোধী প্রতিবাদকে বিএনপি সমর্থন জানায়।’

বিএনপি নেতারা বলছেন, জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে কর্মসূচির পাশাপাশি সরকারের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চাপে রাখার কৌশল নেবেন তারা। সরকারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য যেসব দেশ প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছে তাদের বিষয়ে আরও বেশি সোচ্চার হওয়ার কৌশল নিয়েছে দলটি।

বিএনপি কেনো সমর্থন এর ঘোষণা দিলো প্রশ্নে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে যায়নি। আমরা সরকারের পদত্যাগ ও আগাম নির্বাচনের দাবি নিয়ে রাজপথে নামব। তার আগে এধরনের ইস্যুগুলোতে জনসমর্থন আদায়ের অংশ হিসেবে সমর্থন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এসব আন্দোলনে বিএনপির সমর্থন ও সুযোগ নেওয়া বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি কোটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ও সর্বজনীন পেনশন নিয়ে শিক্ষকদের আন্দোলনে ঢুকেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আব্দুল মান্নান মনে করেন এধরনের সুযোগ সন্ধানী অবস্থান দিয়ে বিএনপি জনমনে জায়গা করে নিয়ে পারবে না। তিনি বলেন, শিক্ষক শিক্ষার্তীরা ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করছে। তাদের নিজেদের দাবিতে তারা আন্দোলনরত। এখানে জাতীয় কোন ইস্যু যুক্ত নয়। সেখানে গিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।