পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, মোবাইল দেখে উত্তর দেয়া — নতুন কারিকুলামে এসব হচ্ছে কী?


hadayet প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৪, ৪:৪৪ পূর্বাহ্ন /
পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, মোবাইল দেখে উত্তর দেয়া — নতুন কারিকুলামে এসব হচ্ছে কী?

পরীক্ষার আগের রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিলছে মাধ্যমিকের ষান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়নের উত্তরসহ প্রশ্ন। বই নিয়ে পরীক্ষা হলে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া, সন্তানরা মোবাইল দেখে উত্তর দেয়ার সুযোগ পাওয়ায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন পেয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষায় আগ্রহ হারাবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এদিকে, নতুন কারিকুলামে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগে প্রশ্ন পেয়ে গেলেও তা মূল্যায়নে প্রভাব ফেলবে না বলে দাবি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি)।

গত বছর শুধু ৬ষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে চালু হলেও চলতি বছর থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলছে  নতুন কারিকুলামে। মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার পর ৬৫ শতাংশ লিখিত এবং ৩৫ শতাংশ ব্যবহারিক ধরে ঠিক করা হয়েছে মূল্যায়ন পদ্ধতি।

সম্প্রতি সারা দেশে শুরু হয়েছে ষান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়নও। তবে পরীক্ষার প্রথম দিন থেকেই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ করে আসছেন অভিভাবকরা। তারা বলছেন, আগে রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিলছে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র।


তবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বলছে, নতুন কারিকুলামের পরীক্ষা বা মূল্যায়ন দক্ষতাভিত্তিক। ফলে কোন শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগে প্রশ্ন পেয়ে গেলেও তা মূল্যায়ন প্রভাব ফেলবে না।
 

বোর্ডের চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক মোহাম্মদ মশিউজ্জামান বলেন, প্রশ্ন ফাঁস হওয়া বা গোপন থাকা কোন বিষয় না; এটি এখন ওপেন জিনিস। এটা একেবারে কোন প্রভাব ফেলবে না। কারণ বিষয়টি না বুঝলে শিক্ষার্থী সেটার উত্তর করতে পরবে না। তার দক্ষতা পরীক্ষার মধ্যে দেখাতে হবে।

যদিও কেবল অভিভাবকরা নয়, পরীক্ষার আগে প্রশ্ন পেয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা মূল্যায়নের পাশাপাশি শিক্ষায় আগ্রহ হারাবে বলে মনে করেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরাও। ফলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা মূল্যায়ন কঠিন হবে — এমনটাই মত তাদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহামান বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস হলে কোন সমস্যা নেই — এটা অত্যন্ত আপত্তিকর অবস্থান বলে মনে করি। আমার প্রশ্ন, তাহলে আমি কোন নৈতিকতা শিক্ষার্থীদের দিচ্ছি। আর যদি তাই হয়, তাহলে কেউ প্রশ্ন পাবে, কেউ পাবে না — এটা তো হতে পারে না। আবার কেউ পেলেও কোন সমস্যা নেই। তাহলে তো সবাই পড়াশোনা বাদ দিয়ে প্রশ্নের পেছনে ছুটবে।’

অবশ্য যেসব শিক্ষক নৈপুণ্য অ্যাপ থেকে প্রশ্ন ডাউনলোড করে আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানায় বোর্ড।