ভারত থেকে ৫ হাজার টন পাট বীজ আমদানির অনুমোদন


shakil প্রকাশের সময় : মার্চ ১৭, ২০২২, ৪:২২ পূর্বাহ্ন / ১৬
ভারত থেকে ৫ হাজার টন পাট বীজ আমদানির অনুমোদন

১৫ বছর পর হিলি বন্দরের অনুমোদন
বাংলাদেশে যে পরিমাণ পাটবীজ প্রয়োজন তার বেশির ভাগই আমদানি করতে হয় ভারত থেকে। বর্তমানে পাট মৌসুমের জন্য ভারত থেকে মোট ৫ হাজার টন (৪ হাজার টন তোষা এবং ১ হাজার টন কেনাফ/মেস্তা) বীজ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। জানা যায়, এই বীজ আমদানির জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ উইংয়ে যে পরিমাণ আমদানিকারক আবেদন করেছিলেন, তার প্রায় ৮৯ শতাংশই মৌসুমি ব্যবসায়ী। প্রকৃত আমদানিকারকের হার মাত্র ১১ শতাংশের মতো। পাট মৌসুম এলেই এক শ্রেণীর মৌসুমি ব্যবসায়ী আইপি বরাদ্দের জন্য ঝুঁকে পড়েন উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ উইংয়ে। আইপি বরাদ্দের পর তারা আবার অন্যের কাছে তা হস্তান্তর বা বিক্রি করে দেন।
এ দিকে প্রায় ১৫ বছর পাটবীজ আমদানিতে বন্ধ থাকা হিলি স্থলবন্দর উন্মুক্ত করে দিয়েছে সরকার। সিড জার্মিনেটর মেশিন নষ্টের ঠুনকো অজুহাতে ‘এ’ গ্রেডের এই বন্দর দিয়ে পাটবীজ আমদানি বন্ধ ছিল। যদিও অন্যান্য বীজ ঠিকই এই বন্দর দিয়ে আমদানি হচ্ছিল। এ নিয়ে গত ৩ মার্চ ‘পাটবীজ আমদানির ক্ষেত্রে ঠুনকো অজুহাতে আটকে রাখা হয়েছে হিলিবন্দর ব্যবহার’ শিরোনামে নয়া দিগন্তে খবর প্রকাশিত হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল সরেজমিনে গিয়ে পাটবীজ আমদানির জন্য এই বন্দরটি উপযোগী বলে রিপোর্ট দেয়ার পর তা তাৎক্ষণিক খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বর্তমানে বেনাপোল ও বুড়িমারী বন্দরের পাশাপাশি হিলি দিয়েও পাটবীজ আমদানি চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভারত থেকে পাটবীজ আমদানির জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ উইংয়ে ১ হাজার ৭৬১টি আবেদন পড়ে এবার। এর মধ্যে ১৮৭টি আবেদন অসম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে চার হাজার টন তোষা পাট বীজ আমদানির ক্ষেত্রে এক হাজার ৮২টি আবেদন বৈধ হয়। এর মধ্যে ১৩৭ জন ‘প্রকৃত আমদানিকারক’ বলে নিশ্চিত হয় কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ উইং। আর এক হাজার টন মেস্তা/কেনাফ বীজ আমদানির জন্য ৪৯২টি আবেদন বৈধ হয়। এর মধ্যে প্রকৃত আমদানিকারক ৩৫ জন।
জাতীয় বীজ বোর্ডের ১০৭তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তোষা পাটবীজ আমদানির জন্য ১৩৭ জন প্রকৃত আমদানিকারকের মধ্যে ৩২০০ টন ভাগ করে (প্রতিজন ২৩.৩৫ টন) দেয়ার কথা। বাকি ৮০০ টন পাবেন প্রকৃত আমদানিকারক নন, তবে বৈধ আবেদনকারী ৯৪৫ জন। অন্য দিকে ৩৫ জনকে ৬৪০ টন মেস্তা/কেনাফের বীজ সমভাবে বণ্টনের সিদ্ধান্ত হয়। অবশিষ্ট ৪৫৭ জনের মধ্যে ১৬০ টন সমভাবে বণ্টনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে আমদানিকারকরা পরিবহনের সুবিধার্থে বরাদ্দ হস্তান্তর করতে পারবেন বলে শর্তে বলা হয়।
জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বীজ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গঠিত ৪ সদস্যের প্রতিনিধিদল গত ৬ মার্চ হিলি স্থলবন্দর পরিদর্শন করে এই বন্দর দিয়ে পাটবীজ আমদানির সক্ষমতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা পরের দিনই বীজ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কৃষি সচিব মো: সায়েদুল ইসলামকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিলে সেদিনই (৭ মার্চ) কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ উইংয়ের পক্ষ থেকে ভারত থেকে পাটবীজ আমদানির জন্য হিলি বন্দর ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালককে। ২০০৭ সাল থেকে প্রায় ১৫ বছর এই বন্দর দিয়ে পাটবীজ আমদানি বন্ধ ছিল। বেনাপোল ও বুড়িমারী বন্দরের পাশাপাশি হিলি দিয়ে পাটবীজ আমদানির জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন আমদানিকারকরা। তবে তাদের বলা হচ্ছিল ‘সিড জার্মিনেটর মেশিন’ নষ্ট হয়ে আছে। তাই আমদানি করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ারের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় বীজ বোর্ড। কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হিলি স্থলবন্দরে ৮ কক্ষবিশিষ্ট একটি ২তলা অফিস বিল্ডিং, কোয়ারেনটাইন ল্যাবরেটরি, সুপরিসর ট্রেনিং রুম, আবাসিক ভবন এবং অফিস সরঞ্জমাদিসহ একটি পরিপূর্ণ উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্র এটি। এখানে একজন উপপরিচালক, একজন, সঙ্গনিরোধ রোগতত্ত্ববিদসহ মোট ১১ জন মঞ্জুরিকৃত কর্মকর্তা/কর্মচারীর বিপরীতে ৯জন কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে বুড়িমারী স্থলবন্দরের তিন বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সঙ্গনিরোধ রোগতত্ত্ববিদ অতিসম্প্রসতি হিলি স্থলবন্দরে বদলি হয়ে এসেছেন। ফলে এই কেন্দ্রের সঙ্গনিরোধ কার্যক্রম আরো শক্তিশালী হয়েছে। বন্দরের সক্ষমতা বিষয়ে বলা হয়, পরির্দশন টিম সরেজমিনে বন্দরের স্থাপনা/শেড, কাস্টম হাউজ, বিজিব পোস্ট পরিদর্শন করেন এবং কাস্টম কর্তৃপক্ষ, পানামা পোর্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন। যেহেতু ভারতীয় পাটবীজ রফতানিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগই হিলি বন্দরের নিকটবর্তী ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুরে অবস্থিত এবং হিলি থেকে বাংলাদেশে পাটবীজ ব্যবসায়ী এবং উৎপাদন এলাকা বুড়িমারী বা অন্য স্থলবন্দরের তুলনায় স্বল্প দূরত্বে অবস্থিত, তাই পরিবহন খরচ ট্রাকপ্রতি ২৫-৩০ হাজার টাকা কম হয়।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

আরও খবর