শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে মেসিদের ইতিহাস


hadayet প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২০, ২০২৩, ৫:১৩ পূর্বাহ্ন / ৫১
শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে মেসিদের ইতিহাস

রুদ্ধশ্বাস এক ফাইনালের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা যেমন রুদ্ধশ্বাস খেলা উপহার দিয়েছিল, তেমনই এক ফাইনাল যেন আবারও দেখা গেল। আর এবারও লাইমলাইটে লিওনেল মেসি। তবে আর্জেন্টিনা নয়, নতুন ক্লাব ইন্টার মায়ামির জার্সিতে।

রোববার (২০ আগস্ট) সকাল ৭টায় লিগস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয় ইন্টার মায়ামি ও নাশভিল। ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র হয়। এরপরে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেও প্রথমবার ৪-৪ গোলে সমতা আসে। তাতে আবারও দেয়া হয় টাইব্রেকার। এবার ৫-৫ সমতা। তবে শেষ পর্যন্ত পরের টাইব্রেকারে একটি শট ঠেকিয়ে লিগস কাপের শিরোপা নিশ্চিত করেন ইন্টার মায়ামির গোলরক্ষক ড্রেক ক্যালেন্ডার।

এরই মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শিরোপার স্বাদ পেয়ে যান মেসি। তিনি এই শিরোপা অর্জনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। লিগস কাপের ফাইনালে গোল করার মধ্য দিয়ে টানা ৭ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন আর্জেন্টাইন সেনসেশন। এমন কীর্তি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এই প্রথম। আর দলের শিরোপা অর্জনও হলো প্রথমবার।

ফাইনাল ম্যাচে মেসির গোলেই টিকে থাকার রশদ পেয়ে যায় মায়ামি। এটি মায়ামির জার্সিতে মেসির ১০ম গোল। তবে ফাইনাল ম্যাচটি জয়ের জন্য তাকে রুদ্ধশ্বাস যাত্রার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। খেলার ৫৭ মিনিটে যখন ১-১ গোলের সমতা আসে, তখন থেকেই দুদল ম্যাচ বের করার চেষ্টা চালিয়ে গেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা মেলেনি।

যদিও একাধিক গোলের সুযোগ মিস করেছে দুদলই। খেলার ৭১ মিনিটে মেসির বুলেট গতির শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। কিছুক্ষণ পরে নাশভিলের হ্যানি মুখতারও মিস করেন গোলের সুযোগ। তবে সবকিছু ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে আসে মায়ামির ফরোয়ার্ড লিওনার্দো ক্যাম্পানার নাম। শেষদিকে তিনি যে সুযোগ নষ্ট করেছেন তাতে আফসোস করতে হয়েছে ভক্তদের। খেলার শেষ মিনিটে গোলরক্ষককে কাটিয়ে ফাঁকা গোল পেয়েও তিনি গোল করতে ব্যর্থ হন। ফলে ১-১ গোলেই শেষ হয় নির্ধারিত সময়।

তাতে খেলা ৯০ মিনিট পরে সরাসরি টাইব্রেকারে গড়ায়। মায়ামির পক্ষে প্রথম শটটি নেন লিওনেল মেসি। সফল কিকে দলকে এগিয়ে নেন। তবে নাশভিলের দ্বিতীয় টাইব্রেকার শট থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন র‍্যান্ডাল লিল। অপরদিকে মায়ামির ভিক্টর উলো ব্যর্থ শট নেন। তাতে ৫টি টাইব্রেকার শেষে ৪-৪ সমতা আসে।

শুরু হয় আবারও ট্রাইব্রেকার শট। এবার ৫-৫ সমতা টানে দুদল। শেষ পর্যন্ত মায়ামি গোলরক্ষক ড্রেক ক্যালেন্ডার ও নাশভিলের গোলরক্ষক এলিয়ট প্যানিকো শট নিতে আসেন। ক্যালেন্ডার সফল হলেও প্যানিকো ভুল করে বসেন। তার শট ঠেকিয়ে মেসির হাতে শিরোপা তুলে দেয়ার দায়িত্ব নেন ক্যালেন্ডার। তাতে কাতার বিশ্বকাপের এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দায়িত্বই তিনি যেন পালন করলেন।

এ দিকে পিএসজি অধ্যায় শেষ করে মায়ামিতে এসেই যেন কাতার বিশ্বকাপের ফর্ম ফিরিয়ে আনলেন মেসি। একের পর এক গোল করে আর্জেন্টিনার মতো মায়ামিকেও অধরা শিরোপা এনে দিলেন। তাতে নায়কের আসনে জায়গা করে নিলেন ৩৬ বছর বয়সী এই ফুটবল জাদুকর।