সিটি নির্বাচন: শেষ মুহূর্তে জমজমাট প্রচার


hadayet প্রকাশের সময় : মে ২৩, ২০২৩, ৩:০০ পূর্বাহ্ন / ৪৮
সিটি নির্বাচন: শেষ মুহূর্তে জমজমাট প্রচার

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৫ দিনের প্রচার শেষ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে। শেষ সময়টুকু কাজে লাগাতে গতকাল সোমবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষে নেতাকর্মী, সমর্থক ও আত্মীয়-স্বজনদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা খানের প্রচারে বাড়তি আকর্ষণ ছিল চলচ্চিত্র তারকাদের অংশগ্রহণ। ভোট চেয়ে এলাকা চষে বেড়িয়েছেন সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরাও।

বিশাল গণমিছিল করেছেন কেউ কেউ।

মেয়র পদে আট প্রার্থী লড়লেও বেশি আলোচনায় নৌকা প্রতীকের আজমত উল্লা খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুন। গতকাল এই সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে আলোচনায় ছিল নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে চাপ সৃষ্টির অনুরোধ জানিয়ে কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতকে লেখা জায়েদা খাতুনের চিঠির বিষয়টি। জায়েদার হয়ে তাঁর আইনজীবী গত রবিবার বিকেলে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরবসহ আরো কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতকে ওই চিঠি পৌঁছে দেন।

এ বিষয়ে গতকাল জায়েদা খাতুনের ছেলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার মা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু আমরা এ ধরনের পরিবেশ দেখতে পাচ্ছি না। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের দাবি বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানানোর জন্য কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারকে ওই চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

বিষয়টি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আসলে বিএনপির পথ ধরেছে।

সে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপ করে এসে নির্বাচনে নেমেছে। সে চাইছে যেকোনোভাবে নির্বাচন বিতর্কিত করতে। ভোট চাইতে মানুষের কাছে না গিয়ে দূতাবাসগুলোতে ধরনা দিচ্ছে। কোনো দূতাবাস তো নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন এমনিতেই শতভাগ সুষ্ঠু হবে।

’ নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীরও গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, উপমহাদেশে যত ভোট হয়, সেসব ভোটের চেয়ে গাজীপুরের ভোট সর্বশ্রেষ্ঠ হবে।

আজমত উল্লার প্রচার

আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্লা খান গতকাল সকালে নগরীর ভোগড়া এলাকায় আজিজ চৌধুরী ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সে গার্মেন্ট মালিক ও শ্রমিকদের এক মতবিনিময়সভায় মিলিত হন। তিনি ছাড়াও সেখানে বক্তব্য দেন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান, শিল্পপতি সালাহউদ্দিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাদা মহিউদ্দিন, গাজীপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আনোয়ার সাদত সরকার, আব্দুল হালিম সরকার, হীরা সরকার প্রমুখ।

এ সময় আজমত উল্লা খান বলেন, ‘বিগত সময়ে অনেক শিল্প মালিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। আমি নির্বাচিত হলে কোনো শ্রমিক ও শিল্প মালিক হয়রানির শিকার হবেন না। শিল্প মালিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নগরীতে আটটি জোনে ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করব।’

বিকেলে তিনি গাজীপুর মহানগরীর বিএডিসি মোড়, ডুয়েট, বাংলাদেশ ধান ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এলাকা, জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ড, লক্ষ্মীপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলিম উদ্দিন বুদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আমানত হোসেন খান, মাসুদ রানা এরশাদসহ অন্য নেতারা। এ সময় আজমত উল্লা খান সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে দুর্নীতিমুক্ত একটি স্মার্ট নগরী গড়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

জায়েদা খাতুন

স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন গতকাল বিকেলে ধীরাশ্রম, কলেরবাজার, টঙ্গীর শিলমুন, সদর মেট্রো থানার শ্মশান এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভায় যোগ দেন। এ সময় তাঁর ছেলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন। জাহাঙ্গীর খোলা জিপে করে পথসভায় বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘গাজীপুরকে পরিচ্ছন্ন আধুনিক নগর হিসেবে গড়তে আমার মা জায়েদা খাতুনকে টেবিল ঘড়ি প্রতীকে ভোট দিন।’

জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সচিব এম এম নিয়াজ উদ্দিন কাশিমপুর এলাকার জিরানী বাজার এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচার চালান।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান নগরীর সদর মেট্রো থানা এলাকা এবং গাজীপুর জজকোর্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচার চালান। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী সরকার শাহনুর ইসলাম রনি নগরীর টঙ্গীসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন।

ভোটগ্রহণে জনবল ১৮ হাজার

রিটার্নিং অফিস সূত্র জানায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে ৪৮০টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য ৪৮০ জন প্রিজাইডিং অফিসার, তিন হাজার ৪৯৭ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, ছয় হাজার ৯৯৪ জন পোলিং অফিসারসহ মোট ১০ হাজার ৯৭১ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে পুলিশ-আনসার মিলিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন সাত হাজার ২০০ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য। সব মিলিয়ে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে প্রায় ১৮ হাজার জনবল। নির্বাচনী এলাকায় আগামী বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বন্ধ থাকবে যানবাহন

নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় আগামীকাল বুধবার রাত ১২টা থেকে ভোটগ্রহণের দিন ২৫ মে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত যেকোনো ধরনের ভারী যানবাহন, ট্রাক, পিকআপ ইত্যাদি চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ। আজ মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বন্ধ থাকবে মোটরসাইকেল।