‘জামায়াত ছাড়া বিএনপি নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পায় না’


hadayet প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩, ২০২৪, ৪:০৭ পূর্বাহ্ন / ১৩
‘জামায়াত ছাড়া বিএনপি নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পায় না’

বিশেষ প্রতিনিধি

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সঙ্গে বিএনপির জোট বাধা নিয়ে নানা সময়ে লুকোচুরি দেখা যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনচেতা জনগন জামায়াতের সঙ্গে জোট বাধাকে সমালোচনার চোখে দেখে বলে বিশেষ মুহুর্তে সেই লুকোচুরির আশ্রয় নেয় বিএনপি বলে মনে করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবীর। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী সংগঠন হিসেবে ও পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে যখন জামায়াতকে নিষিদ্ধের খাতায় ফেলা হয়, তারপরে এই বাংলায় আবারও তাদের প্রতিষ্ঠা করে জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পরে তারা আবারও এই বাংলাকে পাকিস্তার করার নিমিত্তে উঠে এসেছে। এবং সবসময়ই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় এই দলগুলো ভারতবিদ্বেষী কর্মসূচি নিয়ে থাকে। এই যে চলমান বয়কট ইন্ডিয়া ধরনের যে কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে এর পিছনেও এদেরই ইন্ধন থেকে থাকতে পারে। অন্তত ইতিহাস তাই বলে।

বারবার লোক দেখানো দুরত্ব বজায় রেখে জনগনকে বিভ্রান্ত করে বিএনপি উল্লেখ করে শাহরিয়ার কবীর বলেন, ৯২ সালে লোক দেখানো দু্রত্ব দেখেছি। কিন্তু ২০০১ সালে সেই যুদ্ধাপরাধীদের হাতে গাড়িতে বাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে দিয়ে বাংলার মানুষকে চরম অপমান করা হলো। তখনও দগদগে ঘা ছিলো মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া মানুষের শরীরে। সেসময় এই অপমান সহ্য করতে হয়েছে। বিএনপি আর জামায়াতের এজেণ্ডায় যে পার্থক্য নেই তা তাদের কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। সেইটা হলো, বাংলাদেশকে দ্বিতীয় পাকিস্তান বানাতে হবে। জামায়াতের এই এজেণ্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে চলেছে বিএনপি। জামায়াত তাদের সঙ্গে দৃশ্যত থাকুক বা না-থাকুক।

বিএনপি’র সবাই কি এই এজেণ্ডা ধারণ করে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, একবার জাহানারা ইমামের একটি জনসভা ছিলো। তৃণমূলের বিএনপি ভিন্নভাবে ভাবতে পারতো তখন। ছাত্রদলের ছেলেরা মঞ্চে এসে একাত্মতা জানায় এবং কেন্দ্র কী করবে না করবে তারা জানে না, যুদ্ধাপরাধের বিচারে তারা আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায়। ফলে এই যে গোষ্ঠীটা তারা পরবর্তীতে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

মোদ্দা কথা হলো, বিএনপি কখনোই জামায়াত ছাড়া স্বস্তি বোধ করে না, আত্মবিশ্বাসী বোধ করে না। দ্বাদশ নির্বাচনের আগে তারা যে আন্দোলনে জামায়াতের সঙ্গে ছিলো না সেটাও একধরনের কেমোফ্লেজ। মানুষকে ভুল বুঝানো। খেয়াল করে দেখবেন তারা যুগপৎ এর কর্মসূচির পাশাপাশি একইদিনে একই রকমের কর্মসূচি দিচ্ছিলো। এসবই তাদের পরিকল্পনার অংশ। আর এখন যখন আবারও সংগঠিত হওয়ার বিষয়গুলো সামনে আসছে তখন আবারও সম্মিলিত সাংগাঠনিক ফোর্স দিয়ে তারা একীভূত হতে চাইছে।

এখনকার ভারত বিরোধীতার সঙ্গে তাদের সমর্থন দেখতে পান কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা তাদের পাকিস্তান প্রেমের অংশ। ভারত বিরোধীতা করতে তারা নানা বিষয় উস্কে দিয়ে থাকে।