অসহায় মানুষের পাশে থাকতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর


hadayet প্রকাশের সময় : মে ৩১, ২০২৬, ৫:২১ পূর্বাহ্ন /
অসহায় মানুষের পাশে থাকতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অসহায় মানুষের পাশে থাকতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আজ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী।

আপনারা যারা দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে আছেন তারা জানেন, প্রতিবছরই এই দিনটিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন স্থানে যেসব মানুষ অসহায় অবস্থায় এবং অসুবিধায় আছেন যতটুকু সম্ভব তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করেছি।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের কাছে আমার আহ্বান থাকবে, শুধু দলের পক্ষ থেকে নয়; সম্ভব হলে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন। এটাই শহীদ জিয়ার শিক্ষা।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণের পর দলের বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, সবাই শপথ গ্রহণ করি যে, যার যার অবস্থান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব। আজকের দিনে এটিই হোক আমাদের প্রত্যাশা, এটিই হোক আমাদের অর্জন।’

এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল আলম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজীব আহসান, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে খিলগাঁওয়ের জোড় পুকুর মাঠে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণের অনেকগুলো স্থান গাড়ি নিয়ে ঘুরে দেখেছি। শুধু কোরবানির বর্জ্য নয়, অন্যান্য আবর্জনা কতটুকু পরিষ্কার করা হচ্ছে তারও তদারকি করতে হবে। আমরা যারা এই শহরে বসবাস করি এবং বাংলাদেশের নাগরিক তাদেরকে বলতে চাই, এই দেশ যেমন আমাদের, এই শহরটাও তেমনি আমাদেরই। এই কথাটি সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব, অবশ্যই তারা পালন করবে।

পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। যতটুকু সম্ভব শহরটাকে কম নোংরা করার চেষ্টা করা উচিত। তাহলেই এই মহানগর আরও পরিচ্ছন্ন থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই শহর পরিষ্কার থাকলে সবার হাঁটাচলার যেমন সুবিধা, তেমনি পরিবেশটাও বাসযোগ্য ও সুন্দর থাকবে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্যও যথাযথভাবে পরিষ্কার রাখার কাজটা সহজ হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাহাদত বরণের পর ৪৫ বছর ধরে এই দিনে আমাদের নেতৃবৃন্দ চেষ্টা করেন নিজ নিজ এলাকায় দুঃস্থ মানুষদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়ানোর।’

বাবাকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান সবাইকে বলেছেন দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তিনি শিখিয়েছেন কাজ করার মাধ্যমে দেশ গঠনের প্রক্রিয়া। তাঁর গড়া রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হিসেবে সবাই নিজেদের অবস্থান থেকে এবং সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সচ্ছল ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে আমরা দ্রুতই জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারব।’ তিনি আরো বলেন, ‘জিয়াউর রহমান এই দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্যই রাজনীতি শুরু করেছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আল্লাহর রহমতে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে নতুন বাংলাদেশ গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমাদের সব ক্ষমতার উৎস তারাই। কাজেই জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত থাকলে সরকার দ্রুতই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারবে।’