
লেবাননে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি তোয়াক্কা না করেই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আবারও ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই প্রাণঘাতী হামলায় একই পরিবারের ৯ জন সিরীয় শরণার্থী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬ জনই শিশু। রোববার (৩১ মে) লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা এনএনএ (NNA) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননের সাইদা (সিডন) শহরের নিকটবর্তী আদলুন এলাকায় একটি বসতবাড়িতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। মুহূর্তেই বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। উদ্ধারকর্মীরা সেখান থেকে ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য এবং তারা যুদ্ধের কারণে নিজ দেশ সিরিয়া থেকে পালিয়ে লেবাননে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি পরোক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা গত ১৭ মে থেকে আরও ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানো হয়। তবে চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েল নিয়মিত বিরতিতে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েল দাবি করে আসছে, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো এবং অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করার লক্ষ্যে এই হামলা চালাচ্ছে। তবে লেবাননের কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার দাবি, ইসরায়েলের এসব হামলায় নির্বিচারে বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে নারী, শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাণ হারাচ্ছেন। বিপরীতে হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে সীমান্তজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা এবং গাজা যুদ্ধের অবসান হওয়া জরুরি, যা লেবানন পরিস্থিতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
সূত্র: অন-লাইন
আপনার মতামত লিখুন :